Medical Tips
Medical Tips : The training is for parents

স্পীচ এন্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপি, ফিজিওথেরাপি এবং অকুপেশনাল থেরাপি বিষয়ক সকল সমস্যার (রোগের) সাধারন লক্ষন এবং প্রতিকারের স্বাভাবিক উপায় সমূহ নিম্নোক্ত উল্লেখ করা হলো। উল্ল্যেখ্য আলোচ্য রোগের চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ থেরাপিস্টের অধীনে থেকে নিয়মিত অধ্যয়ন করলে ভালো ফলাফল প্রত্যাশা করা যায়।

 

ফ্রোজেন শোল্ডার সমস্যায় করণীয়

Frozen Shoulderফ্রোজেন শোল্ডারকে বাংলায় বলতে পারি হাতের সাথে কাঁধের জয়েন্ট শক্ত হয়ে যাওয়া। কাধে যখন সব সময় ব্যথা হয় এবং রোগী নিজে থেকে বিভিন্ন মুভমেন্ট বা নাড়া-চাড়া করতে পারে না ( যেমন – চুল আচড়াতে না পারা, হাত পিছনে নিতে না পারা) তখন তাকে ফ্রোজেন সোল্ডার বলে। 

কারন:এই রোগের প্রকৃত কারন এখনও জানা যায়নি। সাধারনত ৪০-৬০ বছর বয়সের নারী-পুরুষের ক্ষেত্রে এই সমস্যা বেশী দেখা দেয়। তবে পুরুষের তুলনায় নারীদের এই সমস্যা বেশী দেখা যায়। কাঁধে অপারেশনের পর, অথবা আঘাত পেলে, কোন কারণে জয়েন্ট অনেকদিন নাড়ানো না হলে, ডায়াবেটিস, থাইরয়েডের সমস্যা ইত্যাদির কারনে এই রোগ হতে পারে।

লক্ষণ:এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা কাধের জয়েন্ট-এ ব্যাথা, শক্ত হয়ে যাওয়া, জয়েন্ট নাড়ানোর ক্ষমতা কমে যাওয়া, আক্রান্ত পাশে ঘুমাতে না পারা, হাতে দুর্বলতা চলে আসা সহ নানা সমস্যার সম্মুখীন হয়।

চিকিৎসা পদ্ধতি:আক্রান্ত রোগীরা সাধারনত ব্যথার ভয়ে হাত নাড়ানো বন্ধ রাখেন, ফলে জয়েন্ট আরও বেশি শক্ত হয়ে যায়। তাই রোগীকে বোঝাতে হবে, ব্যাথার ওষুধের চেয়ে হাত নাড়ানোর চিকিৎসা করা বেশি জরুরী। এক্ষেত্রে একমাত্র চিকিৎসা হলো সঠিক ফিজিওথেরাপী চিকিৎসা। ফিজিওথেরাপী চিকিৎসা সেবার মাধ্যমে এই রোগ্য থেকে সহজে আরোগ্য লাভ করা যায়। তাই ফিজিওথেরাপী চিকিৎসা নিন, ব্যথামুক্ত জীবন-যাপন করুন।

 

গোড়ালি ব্যথা

Heel Painআমাদের পায়ের তলায় যে কানেক্টিভ টিস্যু থাকে তাকে প্ল্যানটার ফেসিয়া বলে। এই প্ল্যানটার ফেসিয়া নামক সংযোগকারী কলার ইনফ্লামেশন বা প্রদাহের জন্যই প্ল্যানটার ফেসাইটিস বা  পায়ের গোড়ালির ব্যাথা হয়। এটা মারাত্মক কোন সমস্যা না। তবে এটা অনেক বেশি পীড়া দায়ক একটি সমস্যা। কিন্তু সুখবর হচ্ছে- এই সমস্যা প্রতিরোধের সহজ কিছু উপায় আছে।আসুন আমরা জেনে নেই যন্ত্রণাদায়ক সমস্যাটির আরো কিছু কারণ ও এর প্রতিকার সম্পর্কে।

প্রতিকার: জুতার পরির্বতন যেমন-নরম সোল ব্যবহার করা, হিল কূসন ব্যবহার, আর্চ সার্পোট দেয়া, গোড়ালির কাছে ছিদ্র করে নেয়া ইত্যাদি। শরীরের অতিরিক্ত ওজন কমিয়ে ফেলতে হবে। ক্যালকেনিয়ান স্পার হলে কখনই অপারেশন করানো উচিত হবে না। নরম সোল এর জুতা ব্যবহার করবেন। ফিজিওথেরাপিষ্ট এর নির্দেশমত নিয়মিত পায়ের ব্যায়াম করবেন।

১. হিল পেইন এর সমস্যা থেকে বাঁচতে নরম জুতো ব্যবহার করুন। শক্ত জুতো বা উঁচু-নিচু জায়গায় বেশি হাঁটা চলা করবেন না। ২. অবশ্যই ওজন নিয়ন্ত্রণ করা উচিত। ৩. ভিটামিনের অভাব থাকলে তা পূরণ করতে হবে। ৪. ভিটামিন C ও ভিটামিন E বেশি করে খেতে হবে। ৫. বেশি করে সবুজ শাক-সবজি ফল খাওয়া উচিত। ৬. বেশি করে পানি খেতে হবে।

ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা::একজন ফিজিওথেরাপিষ্ট রোগীর রোগ বর্ণনা, ফিজিক্যাল টেষ্ট, ফিজিওথেরাপিউটিক স্পেশাল টেষ্ট, বিভিন্ন রেডিওলজিক্যাল টেষ্ট এবং প্যাথলজিক্যাল টেষ্ট এর মাধ্যমে শারিরীক সমস্যা সূমহ নির্ণয় করে থাকেন । রোগীর সমস্যানুযায়ী চিকিৎসার পরিকল্পনা করেন এবং চিকিৎসা প্রদান করেন। ব্যাপক চাহিদার কারণে ফিজিওথেরাপি এখন ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। তাই ফিজিওথেরাপি নেয়ার পূর্বে রোগীকে সচেতন থাকতে হবে। একজন গ্রাজুয়েট ফিজিওথেরাপিস্ট আপনাকে নির্ভুল চিকিৎসা দিতে পারবেন। তাই ফিজিওথেরাপি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়া থেরাপি নেবেন না।ফিজিওথেরাপি চিকিৎসক এর পরামর্শ অনুযায়ী  কিছু থেরাপি বাসায় করা জেতে পাঁড়ে যেমনঃ ১,বরফ ম্যাসাজ ২,টেনিস বল ম্যাসাজ ৩,কাফ স্ট্রেচিং  ৪,বিছানায় গোড়ালির স্ট্রেচিং

 

 

 

কোমড় ব্যাথা প্রতিরোধের উপায়সমূহ

Back Painনিচ থেকে কিছু তোলার সময়: কোমর ভাঁজ করে কিংবা ঝুঁকে তুলবেন না।হাঁটু ভাজ করে তুলুন। কোন কিছু বহন করার সময়। ঘাড়ের ওপর কিছু তুলবেন না। ভারী জিনিস শরীরের কাছাকাছি রাখুন। পিঠের ওপর ভারী কিছু বহন করার সময় সামনের দিকে ঝুঁকে বহন করুন।

দাড়িয়ে থাকার সময়: ০ মিনিটের বেশি দাঁড়িয়ে থাকবেন না। হাঁটু না ভেঙে সামনের দিকে ঝুঁকবেন না। দীর্ঘক্ষণ হাঁটতে বা দাঁড়াতে হলে উঁচু হিল পরবেন না। অনেকক্ষণ দাঁড়াতে হলে কিছুক্ষণ পর পর শরীরের ভর এক পা থেকে অন্য পায়ে নিন। দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে হলে ছোট ফুট রেস্ট ব্যবহার করুন

যানবাহনে চড়ার সময় :- গাড়ি চলানোর সময় স্টিয়ারিং হুইল থেকে দূরে সরে বসবেন না। সোজা হয়ে বসুন। ভ্রমণে ব্যথার সময় লাম্বার করসেট ব্যবহার করুন।

বসে থাকার সময় :-আপনার চেয়ারটি টেবিল থেকে বেশি দূরে নেবেন না।সামনে ঝুঁকে কাজ করবেন না।কোমরের পেছনে সাপোর্ট দিন। এমনভাবে বসুন যাতে ঊরু মাটির সমান্তরালে থাকে। নরম গদি বা স্প্রিংযুক্ত সোফা বা চেয়ারে বসবেন না।

শোয়ার সময় :-উপুড় হয়ে শোবেন না। ভাঙ্গা খাট, ফোম বা স্প্রিংয়ের খাটে শোবেন না। সমান তোশক ব্যবহার করুন। বিছানা শক্ত, চওড়া ও সমান হতে হবে। শক্ত বিছানা বলতে সমান কিছুর ওপর পাতলা তোশক বিছানোকে বোঝায়।

মেয়েরা যেসব নিয়মকানুন মেনে চলবেন :-অল্প হিলের জুতো বা স্যান্ডেল পরুন, বিভিন্ন জুতোর হিলের উচ্চতা বিভিন্ন না হওয়াই উচিত। তরকারি কাটা, মসলা পেষা, কাপড় কাচা ও ঘর মোছার সময় মেরুদ- সাধারণ অবস্থায় এবং কোমর সোজা রাখুন। কোমর ঝুঁকে বাচ্চাকে কোলে নেবেন না। ঝাড়ু দেয়া, টিউবওয়েল চাপার সময় কোমর সোজা রাখবেন। মার্কেটিং বা শপিংয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হলে ১০ থেকে ১৫ মিনিট দাঁড়ানো বা হাঁটার পরে বিশ্রামের জন্য একটু বসবেন। বিছানা গোছানোর সময় কোমর ভাঁজ না করে বরং হাঁটু ভেঙে বসা উচিত।

কোমর ব্যথা বেশি হলে বিছানা থেকে শোয়া ও ওঠার নিয়ম :-চিৎ হয়ে শুয়ে এক হাঁটু ভাঁজ করুন। এবার অন্য হাঁটুটি ভাঁজ করুন। হাত দুটি বিছানায় রাখুন। এবার ধীরে ধীরে এক পাশ কাত হোন। পা দু’টি বিছানা থেকে ঝুলিয়ে দিন, এবার কাত হওয়া দিকের হাতের কনুই এবং অপর হাতের তালুর ওপর ভর দিয়ে ধীরে ধীরে উঠে বসুন। দুই হাতের ওপর ভর দিয়ে বসুন এবং মেঝেতে পা রাখুন। এবার দুই হাতের ওপর ভর দিয়ে সামনে ঝুঁকে দাঁড়ান।
 

 

পারকিনসন রোগ (PARKINSON’S DISEASE)

Perkinsonsপারকিনসন রোগ হল এক প্রকারের নিউরে- ডিজেনারিটিভ বা স্নায়ু-অধঃপতনজনিত রোগ, রোগটি বিভিন্ন নামে পরিচিত যেমন-পারকিসনিজম, শেকিং পালসি ইত্যাদি। এ রোগটি সবচেয়ে পরিচিত নিউরো-ডিজেনারিটিভ রোগের মধ্যে দ্বিতীয়। বিভিন্ন ওষুধ বা বিষাক্ত পদার্থের পার্শপ্রতিক্রিয়া মস্তিস্কের প্রদাহ, ক্রমাগত মাথায় আঘাত পাওয়া, নিউরোসিফিলিস, উইলসন ডিজিজ, হানটিংটনডিজিজ ইত্যাদি রোগের কারনে পারকিনসন রোগ হতে পারে, তবে এর বেশিরভাগ কারনই অজানা
চিকিৎসা পদ্ধতি:
পারকিনসন রোগের কোন প্রতিসেধক নেই। এই রোগের লক্ষণ কমানোর জন্য কিছু নিয়ম যেমন 
    নিজেকে অতিমাত্রায় ক্লান্ত করে ফেলবেন না।
    বিশ্রামের পন্থা অবলম্বন করুন, কেননা চাপ এবং অবসাদ দুটোই এ রোগের উপসর্গগুলোকে আরও খারাপ দিকে নিয়ে যেতে পারে।
    ভাল খাবার খেতে হবে যেমন শাক-সবজি, ফল-মূল, পুষ্টিকর সুষম খাবার খেতে হবে এবং নিজের প্রতি আরও যত্নশীল হতে হবে।
    মেডিসিন- লেভোডোপা (Levodopa) ও কার্বিডোপা(Carvidopa) সেবনে লক্ষণগুলো অনেকাংশে কমে যায়, এছাড়াও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ঔষধ সেবন করা উচিত।
    এ রোগ পুরোপুরি ভালো হয় না। তাই আক্রান্তদের ওষুধ সেবনের পাশাপাশি ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা নেয় লাইফস্টাইলে পরিবর্তন আনা উচিত।

 

 

 

ADHD এর লক্ষন এবং প্রতিকার এর উপায়

ADHDআমরা যে ধরনের সমস্যাটির কথা আলোচনা করতে যাচ্ছি তা হল ‘অ্যাটেনশন ডেফিসিট হাইপার অ্যাক্টিভ ডিজঅর্ডার’ অর্থাৎ, বাচ্চার মনোযোগের অভাব এবং অতি-চঞ্চলতা জনিত সমস্যা। এটি একটি মস্তিস্কের বিকাশগত (নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল) সমস্যা। আসুন দেখি এই ধরনের বাচ্চারা কি কি ধরনের উপসর্গ প্রদর্শন করেঃ

অমনোযোগিতাঃ

  • অনেক সময় কোন বিষয়ে বিষদ চিন্তা করে না, ক্লাসে বা অন্য কোন কাজে খুবি সাধারন ভুল করে যা ওই বয়সে অস্বাভাবিক।
  • অনেক সময় কোন সাধারন অথবা খেলাধুলার কাজে বেশিক্ষণ মনোযোগ ধরে রাখতে পারে না।
  • অনেক সময় তার সাথে কথা বলতে গেলে মনে হয় সে আনমনে আছে, শুনতে পাচ্ছে না।
  • অনেক সময় ক্লাসে বা অন্য কোন কাজে ইন্সট্রাকশন ফলো করতে পারে না, যার কারনে কোন প্রদত্ত কাজ শেষ করতে সমস্যা হয় (যেমন একটি কাজ করতে করতে অন্য দিকে বা অন্য কোন কাজে মগ্ন হয়ে যাওয়া)।
  • অনেক সময় কোন কাজ গুছিয়ে করতে পারে না, এলো মেলো করে ফেলে।
  • অনেক সময় দীর্ঘক্ষণ মাথা খাটিয়ে কাজ করতে হয় এমন কোন বিষয়কে এড়িয়ে চলে বা একেবারেই করতে চায় না (যেমন স্কুলে ক্লাসের কাজ, বাড়ির কাজ, অঙ্ক করা ইত্যাদি)।
  • অনেক সময় প্রাত্যাহিক কাজের জিনিস পত্র যেমন পেন্সিল, রাবার, বই, খাতা ইত্যাদি বারে বারে হারিয়ে ফেলে।
  • অনেক সময় কোন কাজ করার সময় অল্পতেই অন্য কোন দিকে মনোযোগ ঘুরে যায়।
  • অনেক সময় দৈনন্দিন জিবনের সাধারন কাজ যেমন দাঁত মাজা, গোসল করা, চুল আঁচড়ানো ইত্যাদি ভুলে যায়।

অতি-চঞ্চলতাঃ

  • অনেক সময় হাত বা পা কাঁপাতে থাকে অথবা চেয়ারে বসলে সামনে পিছনে অথবা পাশাপাশি হেলাদুলা করতে থাকে।
  • অনেক সময় কোথাও বসে থাকার কথা থাকলেও হঠাত করে উঠে পড়ে।
  • অনেক সময় হঠাত করে দৌড় দেয় অথবা কোথাও উঠে পড়ে, যে আচরণ সেই সময়ে বা পরিবেশে কারো কাম্য নয়।
  • অনেক সময় শান্ত ভাবে খেলাধুলায় অংশগ্রহন করতে পারে না।
  • অনেক সময় এমন ভাবে দৌড়ায় যেন দেখে মনে হয় কোন মোটর গাড়ি যাচ্ছে।
  • অনেক সময় মাত্রাতিরিক্ত কথা বলে।
  • অনেক সময় প্রশ্ন করার আগেই উত্তর দেয়ার চেষ্টা করে।
  • অনেক সময় কোন কিছুর জন্য লাইনে অথবা অন্য কোন ভাবে অপেক্ষারত অবস্থায় নিজের সময় আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারে না।
  • অনেক সময় অন্যদের কথা বা কাজে বাধা দেয়, যেমন কোন দুজন কথা বলছে অথবা খেলছে, তাদের মধ্যে অনাহুত ভাবে ঢুঁকে পড়ে।

উপরের আলোচনা থেকে আমরা ‘অ্যাটেনশন ডেফিসিট হাইপার অ্যাক্টিভ ডিজঅর্ডার’ এর উপসর্গ গুল জানলাম। তবে কারো কারো অমনোযোগিতা বেশি থাকে, কারো অতি-চঞ্চলতা বেশি থাকে আবার কারো কারো অমনোযোগিতা ও অতি-চঞ্চলতা দুটাই সমান তালে থাকে। আবার সবগুল উপসর্গই যে থাকতে হবে এমন কোন কথা নেই। এর জন্য কিছু নির্দিষ্ট ক্রাইটেরিয়া রয়েছে। যদি আপনি মনে করেন আপনার বাচ্চার আচরণের সাথে উপরের উপসর্গ গুল কিছু কিছু মিলে যায়, তাহলে এ ব্যপারে একজন অভিজ্ঞ পেশাজীবীর সাথে কথা বলে নিশ্চিত হয়ে নিন।

এধরনের বাচ্চাদের এখনো আমাদের সমাজে অতি দুষ্ট অথবা যাদের কেবল অমনোযোগিতা বেশি তাদের হাবা গোবা বলা হয় এবং স্কুল থেকে তাদের বিরুদ্ধে শিক্ষক ও অন্যান্য বাচ্চার বাবা মার কাছ থেকে প্রতিনিয়ত অভিযোগ আসে। এর জন্য বাচ্চাকেই শেষ পর্যন্ত দায়ী করা হয়। পশ্চিমা গবেষণায় দেখা গেছে স্কুল গামী ৬%-৭% বাচ্চা ‘অ্যাটেনশন ডেফিসিট হাইপার অ্যাক্টিভ ডিজঅর্ডার’ এ আক্রান্ত। আমাদের দেশে এর মাত্রা একই হবে বলে ধরে নেয়া যায়। তবে সচেতনতার অভাবে এই বাচ্চা গুলর শিক্ষা জীবন, সামাজিক জীবন মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়।

কেন হয়?
‘অ্যাটেনশন ডেফিসিট হাইপার অ্যাক্টিভ ডিজঅর্ডার’ এ আক্রান্ত হবার কারন এখনো পরিপূর্ণ ভাবে জানা যায়নি। তবে এই সমস্যা তৈরি হবার পিছনে জেনেটিক ফ্যাক্টর, পরিবেশ এর ভুমিকা, সামাজিক ও পারিবারিক পরিবেশের ভুমিকা রয়েছে বলে গবেষণায় প্রমান পাওয়া যায়। এগুলোর ফলে ব্রেন এর বিশেষ কিছু নিউরোট্রান্সমিটার ভাল ভাবে কাজ করতে পারেনা। যার কারনে ব্রেন এর মনোযোগ, আচরণ নিয়ন্ত্রন, মোটিভেশন ইত্যাদি কার্যক্রম ব্যহত হয়।

চিকিৎসাঃ
কগনেটিভ বিহেভিয়ারাল থেরাপি, সেন্সরি ইন্টিগ্রেসন, কিছু স্টিমুলেন্ট জাতিয় ঔষধ, খাদ্য নিয়ন্ত্রন, কিছু সম্পুরক খাদ্য ইত্যাদির মাধ্যমে সমন্বিত ভাবে এই সমস্যার চিকিৎসা করতে হয়। এ ছাড়াও উন্নত বিশ্বের মত আমাদের দেশেও এখন ‘নিউরো-ফিডব্যাক ব্রেইন ট্রেইনিং টেকনোলজি’ চালু হয়েছে যাতে বাচ্চার এধরনের সমস্যা খুব দ্রুত লাঘব হয়।

পরিশেষে বলব, ‘অ্যাটেনশন ডেফিসিট হাইপার অ্যাক্টিভ ডিজঅর্ডার’ এ আক্রান্ত বাচ্চাদের বাবা মাকে আগে সচেতন হতে হবে। অনেকেই অধৈর্য হয়ে শারীরিক শাস্তির মাধ্যমে এই বাচ্চাদের সোজা করার চেষ্টা করেন, কিন্তু তারা নিজেরাই জানেন না, এই ধরনের আচরণ বাচ্চা ইচ্ছা করে করে না, তাদের মস্তিস্ক ঠিক ভাবে কাজ করছে না বা বিকশিত হচ্ছে না। তাই এখনি সচেতন হন, আপনার বাচ্চার ‘অ্যাটেনশন ডেফিসিট হাইপার অ্যাক্টিভ ডিজঅর্ডার’ থেকে থাকলে বাব মা, পরিবার, শিক্ষক, চিকিৎসক সকলে মিলে সমন্বিত ভাবে কাজ করলে আপনার বাচ্চার ভবিষ্যৎ অন্য রকম হতে পারে। তাকে সেই সুযোগ করে দেয়া আমাদের সকলের কর্তব্য।